ইতিহাস এক মাছের পুকুর কিংবা বাজার। ইতিহাসের মাৎস্যন্যায়ে বড় মাছ ছোট মাছকে গিলে খায়, আবার সময়ের ব্যবধানে ছোট মাছই বড় হয়ে অন্যদের গ্রাস করে। ৫ আগস্ট জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবসে এই মন্তব্য করেছেন ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ছাত্র প্রতিনিধি, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের লিয়াজোঁ কমিটির সমন্বয়ক এবং সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মাহফুজ আলম।
বুধবার নিজের ফেসবুক পোস্টে মাহফুজ আলম দাবি করেন, ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে ইতিহাসের বয়ানও বদলে যায়; অনেকের অবদান স্বীকৃতি পায়, আবার অনেককে সচেতনভাবে ইতিহাসের বাইরে ঠেলে দেওয়া হয়।
পোস্টে মাহফুজ আলম লেখেন, গত দুই বছরের ঘটনাপ্রবাহেও ক্ষমতার এই বাস্তবতা দেখা গেছে এবং ভবিষ্যতেও এর পুনরাবৃত্তি হতে পারে। তার ভাষ্য, সময় বদলালে ক্ষমতার কেন্দ্রও বদলে যায়, কিন্তু ইতিহাস রচনার ধরন খুব একটা বদলায় না।
মাহফুজ দাবি করেন, কোনো আদর্শিক গোষ্ঠীর বিরোধিতা করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়। এমনভাবে উপস্থাপন করা হয় যেন তিনি কখনোই ছিলেন না। আর উল্লেখ করা হলেও তাকে ‘গাদ্দার’ বা বিশ্বাসঘাতক হিসেবে চিত্রিত করা হয়।
অন্যদিকে, একই আদর্শিক গোষ্ঠীর সঙ্গে তাল মিলিয়ে চললে নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে উঠে আসাও কঠিন হয় না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের প্রসঙ্গ টেনে মাহফুজ আলম বলেন, কোনো দলের প্রতিষ্ঠা বা নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পরও দলীয় অবস্থানের বাইরে চলে গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অবদান দলীয় ইতিহাসে উপেক্ষিত হতে পারে। এমনকি গুরুত্বপূর্ণ কোনো ঘটনার পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভূমিকা রাখলেও পরবর্তী সময়ে তার নাম ইতিহাস থেকে বাদ দেওয়া হয়, অথবা উল্লেখ করা হলেও দায় চাপানোর প্রেক্ষাপটে তা উপস্থাপন করা হয়।
পোস্টের শেষাংশে মাহফুজ আলম বলেন, যার হাতে ক্ষমতা, সে-ই ইতিহাস লিখবে। ইতিহাস নিয়ে অভিযোগও মূলত ক্ষমতার রাজনীতির অংশ। কারণ, কোনো রাজনৈতিক বা আদর্শিক গোষ্ঠীর ক্ষমতায় আরোহণের জন্য ইতিহাসের ওপর প্রভাব প্রতিষ্ঠা গুরুত্বপূর্ণ। আর ক্ষমতায় যাওয়ার পর কার অবদান ইতিহাসে স্থান পাবে এবং কাদের বাদ দেওয়া হবে, সেটিও সেই ক্ষমতার রাজনীতিরই প্রতিফলন।



